
মূল ঘটনাটি যা ঘটেছিল: ওষুধ নিয়ে ফেরার পথে তিনি ভুলবশত ৪ তলায় নেমে পড়েন। সেখানে গিয়ে দেখেন তার বাচ্চা নেই (যেহেতু বাচ্চাটি ছিল ৫ তলায়)। সন্তানকে না দেখে ব্যাকুল হয়ে তিনি দ্রুত ৫ তলায় যাওয়ার জন্য লিফটের দরজায় টান দেন। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, লিফট তখন ৫ তলায় অবস্থান করলেও ৪ তলার দরজাটি অনায়াসেই খুলে যায়। মা মনে করেছিলেন লিফট সামনেই আছে, কিন্তু পা বাড়াতেই তিনি ৪ তলা থেকে সরাসরি নিচে পড়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে।
একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা যা আমাদের সদর হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ৫ তলায় চিকিৎসাধীন নিজের অসুস্থ সন্তানকে রেখে ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন এক মা। কে জানত, সন্তানের জন্য আনা সেই ওষুধ আর কোনোদিন তার হাতে পৌঁছাবে না?
কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা:
১. একটি মানুষ সন্তান রেখে ওষুধ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন, থানায় জিডিও করা হলো, অথচ দীর্ঘ তিন দিন পার হয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখার প্রয়োজনবোধ করেনি।
২. লিফট উপরে থাকলে নিচের তলার দরজা কোনোভাবেই খোলার কথা নয়। কিন্তু জানা গেছে, এই লিফটের দরজা নাকি সব সময় এমনিতেই খুলে যেত। এই মরণফাঁদ জেনেশুনে ঠিক না করা কি অপরাধ নয়?
আজ এই অবহেলার কারণে একটি শিশু তার মাকে হারালো। হাসপাতালের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে সকলে।